আহত কয়েকজন, নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫, ক্ষোভে ৪ গাড়িতে আগুন
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত চারটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কজুড়ে চরম উত্তেজনা ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার সোয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বরগুনা জেলার তুলসীবাড়িয়া গ্রামের মো. জালাল খান (৩৬), ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শঙ্করপাশা গ্রামের মো. হাফিজুল মাতুব্বর (৩৫), ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের সুয়াদি গ্রামের জয়নাল মিয়া (৩০), আরিফ মাতুব্বর (৪২) এবং ওবায়দুল সেখ (৪৫)।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ডিমবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কে উল্টে যায়। এতে সড়কে বিপুল পরিমাণ ডিম ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছড়িয়ে থাকা ডিম ও মালামাল সরাতে এবং গাড়িটি উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নড়াইল এক্সপ্রেসের বাসসহ অন্তত চারটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, ডিমবোঝাই পিকআপ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিলেন। ঠিক সে সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ওপর উঠে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালুদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
দুর্ঘটনার কারণ এবং বাসটির গতি ও চালকের দায়-দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সবার দেশ/কেএম




























