সুনামগঞ্জে বাস চাপায় স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-মেয়েসহ নিহত ৬
সুনামগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মেয়েসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাতক উপজেলার জালালপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ৫ জন প্রাণ হারান। অন্যদিকে দিরাই-মদনপুর সড়কে বাসচাপায় আরও এক নারী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ছাতক উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের আব্দুস শুকুরের ছেলে শাহাব উদ্দিন (৪৫), তার স্ত্রী নিলুফা আক্তার (৩০), একই উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের দেওরজালাল গ্রামের মৃত আব্দুল হাশিমের ছেলে ইউসুফ আলী (৫০) এবং তার মেয়ে কেয়া মণি (১৭)। নিহত অপর ব্যক্তি সিএনজিচালক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুনামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা সিলেটের দিকে যাচ্ছিলো। বিপরীত দিক থেকে আসা রিফাত পরিবহনের একটি বাস ছাতকের জালালপুর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর সিএনজিটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরও তিনজন মারা যান।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, ছাতকের জালালপুর এলাকায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দিরাই-মদনপুর সড়কেও আরেকটি দুর্ঘটনায় এক নারী মারা গেছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে দিরাই-মদনপুর সড়কে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
একই দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল এবং মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাকেই এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
সবার দেশ/কেএম




























