১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে রিসোর্ট দখল, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজার শহরের পর্যটন এলাকার লাইট হাউজ জোনে রাতের আঁধারে একটি রিসোর্ট দখলের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহফুজ শাকিল নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে এক ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র এবং মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৭ আগষ্ট) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে লাইট হাউজ এলাকায় অবস্থিত নকশী রিসোর্ট দখলের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় রিসোর্টের কর্মচারী আব্দু শুকুর বাধা দিতে গেলে তাকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে মারাত্মক আহত করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
রিসোর্টের মালিক ইসরাত জাহান বাদী হয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে লাইট হাউজ এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত আল-আমিনকে। গ্রেফতারকৃত মাহফুজ শাকিল এই মামলার দুই নম্বর আসামি, যিনি উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার বাসিন্দা। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বদরুল হাসান মিল্কী, আশিকুল ইসলাম ও আরিফ।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে কলাতলী ও আশপাশের এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে আসছিলো। কিছুদিন ধরে তারা নকশী রিসোর্টে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় তারা রিসোর্ট মালিকের নামে থাকা একাধিক ফ্ল্যাট ও দোকান জবরদখল করে নেয়। শুধু তা-ই নয়, দাবি করা চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি এবং রিসোর্ট মালিকের শিশু সন্তানকে অপহরণ করে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। পূর্বে এ বিষয়ে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিলো বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সোমবার ভোররাতে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে রিসোর্টে হামলা চালায়। তারা হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পুরো রিসোর্ট দখল করে নেয়। তা ছাড়া রুমগুলোতে থাকা ৩২ ইঞ্চির আটটি স্যামসাং টেলিভিশনসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রিসোর্ট দখলের ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুই নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পর্যটন শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনও জবরদখল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























