বাকৃবিতে অতিথি আসন বিতর্কে সমালোচনার ঝড়
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতারা আসনে, দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-তে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে অতিথি আসন বিন্যাস নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাদের অতিথির আসনে বসানো হলেও উপস্থিত কিছু শিক্ষক ও আয়োজককে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের জিমনেশিয়ামে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও, শেষ মুহূর্তে অতিথি আসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব এবং সদস্য-সচিব শফিকুল ইসলামকে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসানো হয়। ফলে আয়োজক শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের একটি অংশ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজনে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও আসন নিশ্চিত করা প্রাথমিক শিষ্টাচার, যা এ ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, সমাপনী পর্বটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়নি। সভাপতি হিসেবে ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তা ছিলো না। আয়োজনের ক্ষেত্রে যথাযথ সমন্বয় ও শৃঙ্খলার ঘাটতি ছিলো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, তারা ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের আমন্ত্রণেই অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং অতিথি হিসেবেই তাদের আসনে বসানো হয়েছে।
ছাত্রদল শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব বলেন, উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ সিনিয়র অতিথিদের আসন গ্রহণের পরই তারা বসেন। পরবর্তীতে আর কে অতিথি হিসেবে আসছেন, তা জানা ছিলো না।
সদস্য-সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের জন্য আসন ছিলো, তবে অনেক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না বা বসেননি। ফলে সমন্বয় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং প্রশাসনের নির্দেশেই বসেন। তার দাবি, সেখানে কোনও পক্ষের ইচ্ছাকৃত ত্রুটি ছিলো না।
তবে আয়োজক বিভাগের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আসাদুল হক সজল জানান, ব্যানারে যাদের নাম ছিলো তাদের অনুপস্থিতির কারণে কিছু আসন ফাঁকা ছিলো, সেগুলো পূরণ করা হয়। পরে কিছু অতিথি ও ছাত্রনেতা সেখানে বসেন। তবে কারও সঙ্গে অসম্মান করার উদ্দেশ্য ছিলো না বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ এটিকে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অতিথি আসন বিন্যাস, আমন্ত্রণ তালিকা এবং প্রটোকল বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট নীতিমালা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এমন বিতর্ক আর না তৈরি হয়।
সবার দেশ/কেএম




























