ইয়েমেনে হুথি হামলায় সরকারি বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত
ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক সেনাসদস্য। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
সরকারি সূত্র জানায়, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের একাধিক সামরিক ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা ও আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে চালানো ওই হামলায় ‘শত শত’ সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর অভিযান পরিচালনার প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা মারিবের উত্তরে অবস্থিত আল-জাওফ প্রদেশ থেকে অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এলাকা এবং মারিবের আল-রুক সামরিক অবস্থান।
চার বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর ফলে দেশটিতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা জাহাজগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করলেও দীর্ঘ এক দশকের সংঘাতেও হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত ইয়েমেন এখনও বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সংকটাপন্ন দেশের তালিকায় রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
সবার দেশ/কেএম




























