চার বছরে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি
ইয়েমেনে সেনা সমাবেশে হুতিদের হামলায় নিহত ৫৮
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার বছরের মধ্যে একদিনে দেশটির সরকারি বাহিনীর ওপর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মারিব প্রদেশ ও সৌদি আরব সীমান্তসংলগ্ন হাদ্রামাউত প্রদেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়।
সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এবং হাদ্রামাউতের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়া এলাকার সামরিক ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতিরা।
এর মধ্যে মারিবের আল-রুওয়াইক সামরিক ক্যাম্পে সকালে সেনা সমাবেশ চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একসঙ্গে অন্তত ৪৫ সেনাসদস্য নিহত হন। অন্যান্য হামলায় আরও অন্তত ১৩ জন সেনা নিহত হন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।
হামলার দায় স্বীকার করে হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, ‘সৌদি-সমর্থিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি’র প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এ অভিযান পরিচালনা করেছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারি বাহিনীর সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তিনি আল-রুওয়াইক, আল-থানিয়াহ এবং আল-আবর এলাকার নাম উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির যেকোনও ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধও নতুন করে তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এ হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমান্ত ছাড়িয়ে সৌদি আরবেও পড়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় হুতিদের হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক এ হামলার পর ইয়েমেন ও সৌদি সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























