Sobar Desh | সবার দেশ ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৩০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০০:৩১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশাসনের বাধার কারণে অনেক বাস্তবায়ন হয়নি অনেক কাজ

ডাকসুর এক বছরের খতিয়ান প্রকাশ

ডাকসুর এক বছরের খতিয়ান প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দায়িত্ব পালনের এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের খতিয়ান প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে বাস্তবায়িত কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম এক বছরের কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুরো কার্যক্রমের অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তবে উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে কয়েকটি খাতে ব্যয়ের পরিমাণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ছারপোকা দমনে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য।

প্রেজেন্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে ৩ কোটি টাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারের জন্য ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ডাকসুর বছরব্যাপী আরও বহু কার্যক্রমের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলেও সেগুলোর বিস্তারিত ব্যয়ের হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ভিপি আবু সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলমান রয়েছে। অডিট শেষ হলে খরচের বিস্তারিত হিসাব কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু যে কাজ করেছে, তা ৩৫ কোটি টাকার চেয়েও বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ভিপি অভিযোগ করেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো দায়িত্বকালজুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের শত অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলের খাবারের মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডাকসুর কমিটিগুলো হাজারের বেশি কাজ করেছে।

শিক্ষক মূল্যায়ন কার্যক্রম নিয়েও প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে। সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘ডিইউ টিচার্স ইভ্যালুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে।

দক্ষতা উন্নয়নেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে ডাকসু। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোর মতো কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়েছে।

পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন রুট বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এক বছরের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে ডাকসু ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে। বইটির বড় একটি অংশে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের পাশাপাশি যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি বা বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে আছে, সেসব বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব এবং চাকরি মেলাসহ ছয়টি উদ্যোগ এখনও আটকে রয়েছে।

এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা চালু, হলগুলোতে ভর্তুকি মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন স্থাপন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা বলা হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়েও প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

ডাকসুর এক বছরের কার্যক্রমের এ খতিয়ানে একদিকে বিভিন্ন খাতে বাস্তবায়িত উদ্যোগ ও ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাব ও বিভিন্ন প্রকল্প আটকে থাকার বিষয়ও সামনে এসেছে। তবে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

জ্বালানি সংকটে কোনও পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ
ভারতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলায় নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি!
জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: পাটওয়ারী
শেখ হাসিনার এ মাসেই আসা উচিত ছিলো, ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে: ওসি রাকিবুল হাসান
‘সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়’
মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের
ডাকসুর এক বছরের খতিয়ান প্রকাশ
দিল্লিতে হাসিনা-আ.লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল
মাঝ আকাশে দুই বাংলাদেশি যাত্রীর তুমুল মারামারি
৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি
আসিফ ও তার স্ত্রীর সম্পদের খোঁজে দুদক
জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পাননি ২২০৫ শিক্ষার্থী
বিলুপ্ত র‍্যাব, এসআরবির যাত্রা শুরু
দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের অসুস্থতার দাবি ঘিরে রহস্য
যে স্ত্রীকে মেরে জেল, ১২ বছর পর সে নারী জীবিত!
নারী রেফারিংয়ে নজর কাড়ছেন জুলিয়ানা