তদন্ত শুরু
চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের এক সদস্যের ঘুষ নেয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন ভূঁইয়া। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিএমপি।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আদালতে কর্মরত শাহীন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলার নথি সরবরাহসহ নানা সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগ ছিলো। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, শাহীন ভূঁইয়া অফিস কক্ষে বসে আছেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার সামনে এসে মানিব্যাগ থেকে কয়েকটি নোট বের করে দেন। শাহীন টাকা গুনে নিজের কাছে রেখে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে টাকা দেয়া ব্যক্তি আইনজীবী তন্ময় বসাক। তিনি দাবি করেছেন,
এটি ঘুষ নয়, স্বাভাবিক লেনদেন ছিলো। তার ভাষায়, কোর্টে কাজ করাতে গেলে কখনও কখনও ৫০-১০০ টাকা দিতে হয়। সেদিন আমি জামিনের ফাইল প্রসেস করাতে সামান্য টাকা দিয়েছিলাম। ঘুষ হলে অবশ্যই বড় অঙ্কের লেনদেন হতো।
তন্ময় বসাক আরও জানান, ভিডিওটি দুই মাস আগের, কোরবানির ঈদের আগে ধারণ করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, একটি মামলার জামিনের প্রসেসিংয়ের জন্য আমি শাহীন সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। সম্ভবত তখন কেউ গোপনে ভিডিও করেছে। তবে এত দিন পর কেনো এটি ভাইরাল হলো, বুঝতে পারছি না।
অভিযুক্ত এসআই মো. শাহীন ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে পরিচয় শুনে ফোন কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে সিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। ঘটনার পরপরই ওই পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা এবং পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন সিএমপির দিকে।
সবার দেশ/কেএম




























