Sobar Desh | সবার দেশ ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২:২৭, ১৯ মার্চ ২০২৬

দামে ধস, কৃষকের কান্না 

১ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও মিলছে না ১ কেজি গরুর মাংস

১ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও মিলছে না ১ কেজি গরুর মাংস
ছবি: সংগৃহীত

পাট ও পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য খ্যাত সালথা উপজেলা-তে এবার বাম্পার ফলন হলেও দাম পড়ে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ১ কেজি গরুর মাংস কিনতে একজন কৃষককে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ১ মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজ—যা তাদের জন্য বড় ধরনের লোকসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপজেলার সালথা সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া, মাঝারদিয়া, নকুলহাটি, ফুলবাড়িয়া ও সোনাপুরসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। ফলে ঈদকে সামনে রেখে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ১ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও ১ কেজি মাংস কিনতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে ২০০ হেক্টরে এবং বীজ উৎপাদন হচ্ছে ৫০ হেক্টরে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।

তবে উৎপাদন ভালো হলেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়েও কম দামে। অনেকেই ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সার সংকটের অভিযোগ তুলে বলেন, বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে দাম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে রাখা হলে তারা কিছুটা লাভবান হতে পারতেন। পাশাপাশি বীজ ও সারের দাম কমানো, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পেঁয়াজ চলে যায় মজুতদারদের হাতে। তখন দাম বাড়লেও কৃষকরা তার সুফল পান না। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় দ্রুত পেঁয়াজ পচে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এ কারণে দ্রুত আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি তুলেছেন চাষিরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় একসঙ্গে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ঢাকার অনেক আড়ত বন্ধ থাকায় এর প্রভাবও বাজারে পড়েছে। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার জানান, সরকারি প্রণোদনার আওতায় এ মৌসুমে ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দামের কারণে কৃষকদের অসন্তোষ রয়েছে এবং সংরক্ষণাগার নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন বেশি হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির বদলে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
পিএসএলের জন্য বিসিবির এনওসি পেলেন মোস্তাফিজ-শরিফুলরা
৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় আগুন
তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়ালো
ভারতের কারাগার থেকে ৩৮ দিন পর ফিরলো খাইরুজ্জামালের লাশ
স্মৃতির ভেতরেই বেঁচে আছেন ওসমান ভাই—বললেন জুমা
এরা হঠাৎ সক্রিয় হলেও গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই: মির্জা ফখরুল
ফেরা আর হলো না অভিনয়ে, চিরনিদ্রায় শামস সুমন
১ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও মিলছে না ১ কেজি গরুর মাংস
মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সোহেল পাটোয়ারীর সংবাদ সম্মেলন
১৭ বছর একটি ব্যর্থ দলকে ডিফেন্ড করেছি: রুমিন ফারহানা
পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি
চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শনিবার ঈদ
রাজধানীতে ছিনতাইয়ের আতঙ্ক: রিকশা থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু
আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের
ডিভোর্স দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে; স্ত্রীসহ ৪ জনকে গুলি