উচ্চঝুঁকিতে দেশের ৩২ বিমা কোম্পানি: আইডিআরএ চেয়ারম্যান
দেশের বিমা খাতের অস্থিরতা ও আস্থাহীনতার চিত্র তুলে ধরে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৩২টি বিমা কোম্পানি উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি জীবন বিমা (লাইফ ইন্স্যুরেন্স) এবং ১৭টি সাধারণ বিমা (নন-লাইফ) কোম্পানি।
বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর আইডিআরএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
আসলাম আলম বলেন, ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানি উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানি রয়েছে মধ্যম ঝুঁকিতে। স্থিতিশীল অবস্থানে আছে মাত্র ছয়টি জীবন বিমা কোম্পানি।
তবে নন-লাইফ বিমা কোম্পানির বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেননি তিনি। উচ্চঝুঁকির কোম্পানির তালিকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এসব প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিমা খাতের সার্বিক দুরবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সময়সীমার মধ্যে বিমার দাবি পরিশোধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া এ আস্থা ফিরবে না।
এম আসলাম আলম স্বীকার করেন, বিমা খাতের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরির পেছনে আইডিআরএরও ব্যর্থতা রয়েছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জীবন বিমার ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ এবং নন-লাইফ বিমার ক্ষেত্রে প্রায় ৪৭ শতাংশ দাবি এখনও অনিষ্পন্ন।
২০২৪ সালের শেষে জীবন বিমা খাতে প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহকের ৪ হাজার ৪১৪ কোটি টাকার দাবি ঝুলে আছে। শুধু গত ১৪ বছরে ৫৪ লাখ বিমা পলিসি বাতিল হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা পলিসির সংখ্যা ৭১ লাখ।
এ ছাড়া চলতি বছরেই আইডিআরএ ২৪ হাজার ৮৫২টি অভিযোগ পেয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে সব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৮২টি বিমা কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি জীবন বিমা এবং ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানি।
সবার দেশ/কেএম




























