Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০৯, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

ইউনুস সরকারের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এফডিআইয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এফডিআইয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম বছরেই প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) রেকর্ড ১৯.১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ—যা অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থার শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের প্রশাসনের অধীনে এ প্রবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক দশকে যেসব দেশে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, সেসব দেশে পরিবর্তনের পরের বছরগুলোতে এফডিআই বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে। শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এফডিআই কমেছে ১৯.৪৯ শতাংশ; চিলিতে ২০১৯-এর অস্থিরতার পর কমেছে ২৫.৬৮ শতাংশ; সুদানে ২০২১-এর পর ২৭.৬০ শতাংশ; ইউক্রেনে ২০১৪ সালের পর ৬১.২১ শতাংশ; মিশরে ২০১১ সালের বিপর্যয়ের পর ১০৭.৫৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ১৯৯৮ সালের পর বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে ১৬১.৪৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যায়। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উল্টো চিত্র আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চোখে ব্যতিক্রমী আস্থা ও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি-পরিবর্তন, স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন ও দ্রুত সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলোকেই বাংলাদেশে এফডিআই বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ইউনুস সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত ঝুঁকি হ্রাস, এবং নতুন বিনিয়োগ-সহায়ক নীতিমালা—বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ফলে বৈশ্বিক প্রবণতার বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশ এ পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এফডিআইয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে রফতানি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেবে।

সবার দেশ/কেএম