অর্থপাচার-লুটপাটে লাগাম, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি
বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে এক বছর পূর্ণ করল অন্তর্বর্তী সরকার। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, বিশেষ করে অর্থপাচার ও লুটপাটের লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অদক্ষতা ও দুর্নীতিতে জর্জরিত অর্থনীতির হাল ধরেই অন্তর্বর্তী সরকার এমন এক সময়ে যাত্রা শুরু করে, যখন দেশ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক দেনা ও ব্যাংক খাতে অনিয়মে কাহিল হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন,
আমরা এখন যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তা এক বছর আগের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
মূল্যস্ফীতিতে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এক বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। গভর্নরের ভাষায়, তেলের দাম, গ্যাসের দাম বাড়েনি। যেটা বাড়ার তা তো আগেই বেড়ে গিয়েছিলো। আমাদের বড় একটা ইনফেকশনের একাউন্ট ছিল বাইরের উৎস থেকে, সেটার ৬০ শতাংশ নিউট্রালাইজ করতে পেরেছি।
বৈদেশিক দায় পরিশোধ, রিজার্ভে স্বস্তি
বিদ্যুৎ, সার ও পরিবহন খাতে নেয়া ৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক দায় পরিশোধ করেছে সরকার। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ বিলিয়নের কাছাকাছি। একই সময়ে প্রবাসী আয় ছাড়িয়েছে ৩০ বিলিয়নের রেকর্ড মাইলফলক।
ব্যাংক খাত ও রফতানিতে অগ্রগতি
নিয়মিত নজরদারি ও রিফর্মের ফলে ব্যাংক খাতেও ফিরেছে শৃঙ্খলা। রফতানি খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যদিও বৈশ্বিক বাজারে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে।
‘বাবা দেউলিয়া করে গেছে, আমি ঘুরাতে এসেছি’
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দায় মাথায় নিয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন,
বাবা আমাকে দেউলিয়া করে দিয়ে গেছে, সন্তান হিসেবে আমাকে ঘুরাতে হবে। চেষ্টা করছি একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বড় পরিবর্তনের জন্য বহু সংস্কার হাতে নেয়া হয়েছে, তবে ভবিষ্যৎ সরকারকেও সে রূপান্তরের কাজ শেষ করতে সুযোগ দিতে হবে।
খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
আমরা একেবারে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছি। এখন আর খাদে পড়ার আশঙ্কা নেই, বরং আমরা অনেকটাই স্বাভাবিকতায় ফিরেছি।
সীমিত সাফল্যের স্বীকারোক্তি
তবে কর্মসংস্থান, আয় বৈষম্য হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রশ্নে বড় অগ্রগতি হয়নি—তা অকপটে স্বীকার করেছেন গভর্নর ও অর্থ উপদেষ্টা। বিশেষত, ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ মূল আকাঙ্ক্ষা ছিলো অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা, যার দিকে এখনও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি।
সর্বোপরি, অস্থিরতা ও অব্যবস্থাপনার ধাক্কা সামলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বছরে অর্থনীতি কিছুটা শৃঙ্খলায় ফিরেছে। তবে সামনে টেকসই উন্নয়ন এবং কাঠামোগত সংস্কারের দীর্ঘ পথ এখনও বাকি।
সবার দেশ/কেএম




























