পাঁচ ইসলামি ব্যাংক একীভূতকরণে বিতর্ক
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করছে সরকার
পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এসব ব্যাংকের শেয়ারের প্রকৃত মূল্য ইতোমধ্যে ঋণাত্মক হয়ে গেছে—ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য আর কোনও আর্থিক ফেরত দেয়ার সুযোগ নেই।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর বলেন, সব শেয়ারের মূল্য এখন শূন্যে নেমে এসেছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের প্রকৃত মূল্য এখন ঋণাত্মক ৪২০ টাকা।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিলো, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী বর্তমানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের সুযোগ সীমিত। তবে সরকার চাইলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ইসলামি ব্যাংক হলো—
- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
- গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
- ইউনিয়ন ব্যাংক
- এক্সিম ব্যাংক
- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)
এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক পরিচালনা করতেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, আর বাকি চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম। দুজনই ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাজ্যের এফসিডিওর পরামর্শে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের অধীনে সংকটাপন্ন ব্যাংকের দায় ও লোকসানের ভার বহন করবেন সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার এবং দায়ী ব্যক্তিরা।
আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অডিটে দেখা গেছে, পাঁচ ব্যাংকই দীর্ঘদিন ধরে বিপুল লোকসানে রয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে গেছে। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—এ লোকসানের দায়ভার বিনিয়োগকারীরাই বহন করবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ একীভূতকরণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য এক দৃষ্টান্তমূলক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আর্থিক বাজারে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























