Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায়

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায়
ফাইল ছবি

অমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও একীভূত পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। 

চার মাস পার হলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাঠানো চিঠির কোনো সদুত্তর পাননি। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন, ভুয়া ব্যালেন্সশিট দেখিয়ে ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী এবং লাভজনক হিসেবে পুঁজিবাজারে উপস্থাপন করা হয়েছে।

দুর্নীতি, অনিয়ম এবং খেলাপি ঋণের বোঝা ভারে প্রায় অস্তিত্বশূন্য ব্যাংকগুলো সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, অডিট ফার্মগুলোর অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ব্যালেন্সশিট ব্যাংকগুলোকে লাভজনক দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

ইউনিয়ন ব্যাংকে বিনিয়োগকারী মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলো আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার পর আমরা শেয়ার কিনেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক অডিটের পরই ব্যাংকগুলো আইপিওতে এসেছে। তারা অনুমোদন দিয়েছে। তাই এর দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের, তিনি বলেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেন, এটার দায় বিনিয়োগকারীদের নয়। এটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়, কারণ তারা ভালো কোম্পানি হিসেবে ব্যাংকগুলোকে তালিকাভুক্ত করেছে।

পুঁজিবাজারে আইপিওভুক্ত হতে জমা দেয়া ব্যালেন্সশিটের অডিট যাচাই করে অনুমোদন দেয় বিএসইসি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের পর অডিট ফার্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। বিএসইসির পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অডিট ফার্মদের বিরুদ্ধে কমিশন ও ফাইন্যানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফআরসিও) ব্যবস্থা নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও পদক্ষেপ নেবে।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বিএসইসি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে পাঁচটি সুপারিশ করা হয় এবং বিষয়টি সরকারের কাছে জানানো হয়। কিন্তু চার মাস পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফাইন্যানশিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রাই পার্টি মিটিং করে এডপ্ট করেছে। রেগুলেটরও বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার কেনার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিবেচনার যোগ্য। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, স্টক মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের হাতে কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিলো না। যারা বোর্ডে বসে কন্ট্রোলিং সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা হয়ত লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা আর্থিক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতিকে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে, না হলে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কমে যাবে।

এদিকে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, সরকার একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ লাখ আমানতকারীকে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফুটবলারের সঙ্গে টেইলর সুইফটের প্রেমের পরিণতি
অভিজ্ঞতা ছাড়াই জনবল নিবে ব্যাংক এশিয়া
সংসদের চলতি অধিবেশনে মোট ৯১ বিল পাস
ঘরের মাঠে হোঁচট খেলো রিয়াল মাদ্রিদ
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ
আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদল
শার্শার ডিহিতে ব্রিজ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা বালিভর্তি ট্রাক
বিদায় অনুষ্ঠানের আড়ালে ‘কুরুচিপূর্ণ’ আয়োজন
শুধু আলোচনার জন্যই বাঁচিয়ে রেখেছি ইরানের নেতাদের—দম্ভ ট্রাম্পের
ওয়াদা ভঙ্গ করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির
যুবদল নেতার চাঁদাবাজির চাপে ডা. কামরুল ইসলাম
প্রথম দিনেই বিএনপির ফরম নিলেন ৫৪৪ নারী প্রার্থী
হরমুজে আটকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, শারজাহয় ফেরার নির্দেশ
আলোচনা ভেস্তে গেলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মুচলেকায় মুক্তি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রেদোয়ানের
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ সংসদে পাস
জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল পাস
হরমুজের আকাশে নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন
৮ হাজার কোটি টাকার তেল প্রকল্প পড়ে আছে অচল