দল বিলুপ্ত করে ধানের শীষেও কপাল খোলেনি যাদের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিলো ব্যাপক দলবদল, জোট ভাঙা-গড়া আর প্রতীক নিয়ে হিসাব–নিকাশ। ২০২৫ সালে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকেই ভোটে লড়তে হবে—এ বিধান ছোট দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কেউ কেউ দলই বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ধানের শীষে ভর করলেই যে বিজয় নিশ্চিত—এ ধারণা ভেঙে গেছে বেশ কয়েকজন নেতার ক্ষেত্রে। দলবদল করেও নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি তারা।
সৈয়দ এহসানুল হুদা
গত ২২ ডিসেম্বর নিজের দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে বরণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন। কিন্তু বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের কাছে পরাজিত হন। ইকবাল পান ৭৯,৬০৪ ভোট, আর এহসানুল হুদা পান ৬৬,৪৫০ ভোট।
ড. রেদোয়ান আহমেদ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ ২৪ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে হেরে যান। শাওন পান ৯০,৮১৯ ভোট, আর রেদোয়ান আহমেদ পান ৪৭,৯২৫ ভোট।
রাশেদ খান
গণঅধিকার পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান ২৭ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন। ঝিনাইদহ-৪ (সদর-কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়লেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে পরাজিত হন। আবু তালেব পান ১,৫৯,০৯৯ ভোট, আর রাশেদ খান তৃতীয় হয়ে পান ৫৬,২২৪ ভোট।
ফরিদুজ্জামান ফরহাদ
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-র চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। নড়াইল-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আতাউর রহমানের কাছে তিনি পরাজিত হন। আতাউর রহমান পান ১,১৮,১৪২ ভোট, আর ফরহাদ পান ৪৫,৪৬৩ ভোট। এটি তার টানা তৃতীয় পরাজয়।
রশীদ বিন ওয়াক্কাস
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর একাংশের নেতা রশীদ বিন ওয়াক্কাস নিবন্ধন না থাকায় ধানের শীষ প্রতীকে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে নির্বাচন করেন। ত্রিমুখী লড়াইয়ে তিনি তৃতীয় হন। জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক পান ১,৩২,৮৫৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পান ৮৫,৫১৭ ভোট, আর রশীদ পান ৫৫,৪১৯ ভোট।
তবে দলবদল সবার জন্য অমঙ্গল বয়ে আনেনি। কেউ কেউ সফলও হয়েছেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম
বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (একাংশ)-এর চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পর বিএনপিতে যোগ দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পান।
ড. রেজা কিবরিয়া
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ১ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন তিনি।
ববি হাজ্জাজ
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে জয় পান।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, দলবদল ছিল এবারের নির্বাচনের বড় আলোচ্য বিষয়। তবে ভোটের মাঠে শেষ কথা বলেছে ভোটাররাই। কেউ ধানের শীষে ভর করে সংসদে উঠেছেন, আবার কেউ দল বিলুপ্ত করেও শেষ পর্যন্ত সংসদসদস্য হতে পারেননি।
সবার দেশ/কেএম




























