মাঠে নামার চেষ্টা পণ্ড, নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-পার্বতীপুরে উত্তেজনা
নিষিদ্ধ আ.লীগ কার্যালয় খুলতে গিয়ে গ্রেফতার ১০
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর অভিযোগে নোয়াখালীতে ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মোট ১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার পৃথক সময়ে এসব অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রামেও মহানগর কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
নোয়াখালীতে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন একদল নেতাকর্মী। তারা দলীয় স্লোগান দেন এবং ব্যানার টাঙিয়ে কার্যালয়টি ‘অবমুক্ত’ করার ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিলো।
নোয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাছিনা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে একটি ব্যানার টাঙানো হয়, যেখানে লেখা ছিলো—
দীর্ঘ আঠারো মাস পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় আজ থেকে অবমুক্ত করা হলো।
খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সফিকুল ইসলাম নাজিম (৪৩), কাউছার হামিদ (৩৮), জিয়াউল রহমান রাসেল (৪৮), আবু সাঈদ (৫৫) ও বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল (৪৯)-কে আটক করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর কার্যালয়ে পুনরায় তালা লাগিয়ে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে নোয়াখালী শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় ছাত্র-জনতার সংগঠন জুলাই ঐক্য।
চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিল
চট্টগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় দারুল ফজল মার্কেটে ঝটিকা মিছিল করে সাইনবোর্ড টাঙায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর কর্মীরা। ভিডিও বার্তায় ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন দাবি করেন, ১৮ মাস পর শেখ হাসিনার নির্দেশে তারা কার্যালয়ে ফিরেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তির তৎপরতা’ রুখে দেয়ার ঘোষণা দেয়।
পার্বতীপুরে পাঁচজন গ্রেফতার
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের নতুন বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—পার্বতীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আকতার হোসেন (৬৮), হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য জোটের উপজেলা সভাপতি ড. গৌরাঙ্গ কুমার সরকার (৫৫), ডা. সাজ্জাদ হোসেন (৫২), তোজাম্মেল হক (৪০) ও বাবলু হোসেন (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কার্যালয়ে সমবেত হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পার্বতীপুর মডেল থানা-এর ওসি এম এ ফারুক বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের মাঠে ফেরার চেষ্টা এবং তার জেরে পাল্টা বিক্ষোভ ও গ্রেফতারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সবার দেশ/কেএম




























