তদন্তের দাবি
বিএনপি নেতার বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপ করলো আওয়ামীকর্মীরা
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নে বিএনপির এক প্রবীণ নেতার বাড়িতে রাতের আঁধারে মলমূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত অপমান ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক সাবেক ইউপি সদস্য ও কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় তারা বাইরে বালতিতে করে পানি নিক্ষেপের মতো শব্দ শুনতে পান। নামাজ শেষে বাইরে এসে দেখেন, বাড়ির প্রধান গেট, বারান্দা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
জাকির হোসেনের স্ত্রী খুরশিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি বলেন, এটি শুধু আমাদের পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা নয়, সামাজিকভাবে অপমানিত করারও অপচেষ্টা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
খুরশিদা বেগম আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে জাকির হোসেন পটিয়া থেকে বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এ বিষয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় যুবদল নেতা শেখ মো. নাছির বলেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাকে ও তার পরিবারকে মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অপদস্থ করতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কারও বাড়িতে এ ধরনের নোংরা ও অশোভন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























