গ্রেফতার এড়াতে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বিএনপিতে
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং গ্রেফতার এড়ানোর উদ্দেশ্যে শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
রোববার রাতে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে প্রবেশ করেন। কামারপুকুর বাজারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল হাসেম সরকার, কামারপুকুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক লাবু সরকার। এছাড়া প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের শতাধিক নেতাকর্মী এ যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকেরা মনে করেন, মামলা ও গ্রেফতার এড়াতেই এসব নেতাকর্মীরা দলবদল করছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, বিএনপি কি বিতর্কিত নেতাদের দলে ভিড়ে নিজেদের রাজনৈতিক নৈতিকতা ক্ষুণ্ণ করছে কি না।
যোগদানকারী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করলেও দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নেই। দুর্নীতি ও কর্মীদের অবমূল্যায়নের কারণে আমি অতিষ্ঠ। তাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হলেও স্থানীয় কর্মকাণ্ডে হতাশ ছিলাম। অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেও একই ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিলো। তাই স্বেচ্ছায় আমরা একসঙ্গে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।
নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার বলেন, তাদের অংশগ্রহণ তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।
সবার দেশ/কেএম




























