Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২১, ২০ মে ২০২৬

প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল আটক

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত সোহেল রানাকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোহেল রানা পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেলেও সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে তার স্ত্রী সম্পাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়।

নিহত রামিসা পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পথে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল কৌশলে শিশুটিকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রামিসা দীর্ঘ সময় বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় তাদের। ভেতর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানার পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর সোহেলের কক্ষে রক্তের দাগ দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে খাটের নিচে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর থেকে কাটা মাথা পাওয়া যায়। এ সময় শিশুটির শরীর বিবস্ত্র অবস্থায় ছিলো। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি ফরেনসিক ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, শিশুটি স্কুল থেকে ফেরার পথে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল তাকে টেনে নিজের রুমে নিয়ে যায়। পরে বাথরুমে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী বাসার ভেতরেই ছিলেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকতেন সোহেল ও তার স্ত্রী সম্পা।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিশুটির মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে। পরে একই বাসার ভেতরে একটি বালতির মধ্যে মাথাটি পাওয়া যায়। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিলো কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় আটক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। হত্যার পেছনের কারণ ও ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

‘সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’, প্রশাসকের কাছে প্রমাণ চাইলো জামায়াত
অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হোন: হাসনাত
আশুলিয়ায় ঝুটের গুদাম ও বাড়িতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট
দেখা হচ্ছে নিউইয়র্কে—রহস্যজনক পোস্ট মিথিলার
৪০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় হামলা, ট্রাক এনে লুটপাট
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতের: শামা ওবায়েদ
ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের লংমার্চ, সোয়াবিতে ‘বড় চমক’
গাজীপুরে গুলি করে ৩ কোটি টাকা ছিনতাই, আহত ৩
রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত গ্রিডে দেয়ার প্রতিশ্রুতি রোসাটমের
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
দিল্লির ককরোচ আন্দোলনে যোগ দেবেন মমতা!
সব ইসলামী দল এক হলেও ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়: আ ফ ম খালিদ
ইউরেনিয়াম ছাড়বে না ইরান, মজুতও দেবে না
রংপুরের চার খুনে ডিএনএ মিললো সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর
হুতিদের হামলায় রিয়াদে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল