ডিপিডিসির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েতের পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)র সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান এ অনুসন্ধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৭০টির বেশি সরকারি-বেসরকারি দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বেলায়েত হোসেন, তার স্ত্রী শামসুন নাহার এবং তাদের তিন সন্তানের নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের তথ্য বলছে, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা বেলায়েত হোসেন চাকরি জীবনের শুরুতে বিদ্যুৎ বিভাগে যোগ দেয়ার পর থেকেই দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েন। শেষ পর্যন্ত তিনি ডিপিডিসির চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদ থেকে অবসর নেন।
ঢাকার ধানমন্ডির শা শা বাড়ি রোডে রয়েছে তার নামে ও স্ত্রীর নামে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, যার প্রকৃত বাজারমূল্য অন্তত সাড়ে চার কোটি টাকা। অথচ আয়কর রিটার্নে এর মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৯৪ লাখ টাকা।
এছাড়া ঢাকার খিলগাঁও, আফতাবনগর, ডেমরা, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে, স্ত্রীর নামে এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনের নামে রয়েছে জমি ও প্লট। ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু সঞ্চয়পত্র রয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার।
স্ত্রী শামসুন নাহারেরও দৃশ্যমান কোনো আয় না থাকলেও তার নামে রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ, জমি, এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্র। অভিযোগ রয়েছে, বেলায়েত হোসেনের কাছের আত্মীয়দের নামেও ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বেলায়েত হোসেন। পরে চাকরি জীবনে যে সরকার ক্ষমতায় ছিলো, তার ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিনিময়ে লোভনীয় পদ লাভ করেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েন।
জানা গেছে, আয়কর রিটার্নে সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। স্ত্রী শামসুন নাহারের নামে ঢাকার রামপুরা ও হাজিপাড়ায় রয়েছে কোটি টাকার জমি।
গাড়ি ব্যবহারেও রয়েছে কৌশল। বেলায়েত হোসেনের ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়াও তার স্ত্রী ও আত্মীয়দের নামে আরও দামি গাড়ি রয়েছে, যা পরিবারভুক্ত সদস্যরাই ব্যবহার করেন।
এছাড়া পরিবারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়েরও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বেলায়েত হোসেন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি তারা।
দুদক সূত্র বলছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/এফএস




























