এনবিআরের আরও ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কমিশনারসহ আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের তালিকায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন—ঢাকা পূর্বের কমিশনার (কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট) কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, বেনাপোল স্থলবন্দরের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, উপ-কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এবং কর অঞ্চল-২ এর কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ।
এর আগে গতকাল আরও পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া, সদস্য লুতফুল আজীম, সিআইসির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম এবং যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাসান।
সবশেষ ২৯ জুন ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের ঘোষণা দেয় দুদক। তাদের বেশিরভাগই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
দুদকের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্য কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কর ফাঁকির সুযোগ করে দিচ্ছেন। আবার কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ না পেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি এনবিআরে ব্যাপক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত মে মাসে সরকার হঠাৎ এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারি করলে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মকর্তারা এক সপ্তাহব্যাপী কঠোর কর্মসূচি পালন করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পরে ব্যাকফুটে গিয়ে এনবিআর বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দেয়। আন্দোলন স্থগিত হলেও এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা নিতে দেখা যায়, যা রাজস্ব সংস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























