টাকা ছাড়াই প্লট নেন খায়রুল হক, অনুসন্ধানে দুদক
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নিয়েও মূল্য পরিশোধ না করায় এবং অনিয়মের মাধ্যমে তা দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বুধবার (২৩ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, খায়রুল হক ২০০৩ সালে রাজউক থেকে পূর্বাচলে একটি প্লটের বরাদ্দ পান। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রথম কিস্তির টাকা সাড়ে ছয় লাখ টাকা ছিল, যা পরিশোধ না করায় রাজউক ওই বরাদ্দ বাতিল করে।
তবে ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রশাসনের প্রভাব ও রাজউক-গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে সেই প্লট পুনরায় নিজের নামে হস্তান্তর করান। তখন তিনি আগের কিস্তির একটি পুরনো চেক দিলেও তা নগদায়ন হয়নি।
দুদক জানিয়েছে, টাকা ছাড়াই প্লট হস্তান্তরের বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এ বরাদ্দের পেছনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০১০ সালের একটি নির্দেশনার প্রভাব ছিল।
এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাতে রাজউক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এবং আয়কর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। এ দলে রয়েছেন সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, মুবাশ্বিরা আতিয়া তমা, এসএম রাশেদুল হাসান, একেএম মুর্তুজা আলী সাগর, মো. মনিরুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের পত্র, নথিপত্র ও রাজউক ফাইল, সেই সঙ্গে খায়রুল হকের আয়কর রিটার্নসহ সব সংযুক্ত রেকর্ড চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ধানমণ্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা রয়েছে—একটি রায় জালিয়াতি ও অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে।
২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আলোচিত রায় দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। সেই রায়ের গোপন সংশোধন, পরিবর্তন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ ও ফতুল্লা থানায় দুটি মামলা হয় গত বছর।
অভিযোগগুলো তদন্তে এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি।
সবার দেশ/এফও




























