অন্ধকার জোসনা, সিআইডির হাতে আটক
শুধু ইতালিতে পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা ধরিয়ে দেয়া নয়—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও শত কোটি টাকা হাতিয়ে আসছিল এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। অবশেষে সে চক্রের মূলহোতা জোসনা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি বিশেষ টিম।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জোসনা খাতুন (৩৫) নড়াইল জেলার দলজিৎপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মেহেদী হাসান, পিতা সুলতান খাঁ এবং মাতা জোবেদা বেগম।
সিআইডি জানায়, জোসনা পল্টন থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা চলমান।
এর আগে একই মামলায় এ চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মিলন মিয়া (৪২) গ্রেফতার হয়ে আদালতে সোপর্দ হয়েছে। মিলন ফরিদপুরের সালতা উপজেলার ইসুবদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। প্রথমে লোভনীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তি করা হতো বিপুল অঙ্কের টাকায়। বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হতো সে অর্থ। ভুক্তভোগীদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হতো জাল ভিসা, আর কখনও পাসপোর্ট আটকে রেখে করা হতো হয়রানি।
ইতালি পাঠানোর নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলো মিলন মিয়া। টার্গেট করা হতো বিদেশে যেতে আগ্রহী মানুষদের। ফরিদপুর, নড়াইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এ চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিলো। ইতোমধ্যে শতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
অভিযোগ আছে, জোসনা শুধু ভিসা প্রতারণাই নয়—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ অপরাধ স্বীকার করেছেন। আরও জানা গেছে, তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ। গ্রেফতারকৃত জোসনাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অজ্ঞাত সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সবার দেশ/কেএম




























