Sobar Desh | সবার দেশ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১৫, ৪ মে ২০২৬

আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন ভুক্তভোগীরা

শার্শায় চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুর ও মারপিট

শার্শায় চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুর ও মারপিট
ফাইল ছবি

যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের কন্দর্পপুর মানিকআলী গ্রামে চাঁদা না পেয়ে দফায় দফায় হামলা, মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।

শনিবার ও রোববার রাতের এ তাণ্ডব এবং ক্রমাগত হুমকিতে গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় অনেক ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত নূর বক্স মন্ডলের ছেলে ইহান আলী (৪৮) ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা সহকারে হঠাৎ মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে তারা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। মিজানুর রহমান চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তাকে, তার স্ত্রী এবং তার বিদেশ প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে।

​একই রাতে ওই বাহিনী কৃষক আব্দুস ছাত্তারের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরদিন রোববার রাতে রসুল মিয়া নামে অপর এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা না পেয়ে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে হারুন নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। আহতরা স্হানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।

গ্রামবাসীর দাবি, ইহান আলী ও তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সন্ধ্যার পর গ্রামের নারীরা নিরাপত্তার অভাবে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। এমনকি প্রাকৃতিক প্রয়োজনেও তারা ঘরের বাইরে যাওয়ার সাহস পান না।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও দীর্ঘদিনের চিহ্নিত এ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কীভাবে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকা শাসন করলেও বর্তমানে তার এ ‘খুঁটির জোর’ কোথায়, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, ইহান আলীর বিরুদ্ধে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।

এ ব্যাপারে একাধিকবার ইহান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

​যশোর নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কন্দর্পপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে কোনও অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ: বাবা-মায়ের প্রতি চাপা অভিমান
শার্শায় চাঁদা না পেয়ে হামলা-ভাঙচুর ও মারপিট
সাবরেজিস্ট্রার অফিসে সিসিটিভি স্থাপনে হাইকোর্টের রুল
হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
‘খেলা হবে’ মমতার ‘খেলা শেষ’? তৃণমূলের ওপর হামলা শুরু
হামে ভয়াবহ পরিস্থিতি, একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু
আওয়ামী পরিবারের সন্তান নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ১০ নেতার পদত্যাগ
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড উৎপাদন
মমতার জরুরি বার্তা—‘ওয়েট অ্যান্ড সি, আমরাই জিতবো’
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনে শক্ত অবস্থানে মৌলবাদী বিজেপি
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে রিট
বিপৎসীমার ওপরে ৭ নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা
টঙ্গী বস্তিতে সুড়ঙ্গপথসহ বিলাসবহুল কক্ষের সন্ধান
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে রিট