ফারজানার ভালোবাসায় নতুন জীবন কুদ্দুস বিশ্বাসের
স্ত্রীর কিডনিতে বেঁচে গেলেন বিএনপি নেতা
ভালোবাসা কেবল আবেগ নয়, কখনও কখনও জীবনদানের সমার্থকও হয়ে ওঠে। তেমনই এক হৃদয় ছোঁয়া ঘটনা ঘটেছে যশোরের শার্শা উপজেলায়। দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুগে মৃত্যুর মুখে থাকা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস বিশ্বাসের জীবন রক্ষা করেছেন তার স্ত্রী ফারজানা। স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি স্বেচ্ছায় দান করেছেন এ সাহসী নারী।
ভালোবাসার মূল্য জীবনের চেয়ে কম নয়
ফারজানা ও কুদ্দুসের এ মানবিক গল্প এখন শার্শার অলিগলি পেরিয়ে দেশের মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। জানা গেছে, সব ধরনের চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা তুর্কিস্তানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পাড়ি জমান। সেখানে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। চার মাসের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে শুক্রবার বিকেল ৪টায় কুদ্দুস বিশ্বাস হেলিকপ্টারে নিজ এলাকায় ফিরলে বাগআচড়া ইকোপার্ক মাঠে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের জন্ম হয়।
মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ফিরে আসা
হাজারো মানুষ ফুল, মিষ্টি, ব্যানার ও শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে তাকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ—সবাই যেনো সাক্ষী হতে চেয়েছিলেন এক সাহসিকতা ও ভালোবাসার গল্পের।
শার্শা উপজেলা সাবেক এমপি মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, এ ঘটনা শুধু চিকিৎসার সাফল্য নয়, এটা ভালোবাসা, আত্মত্যাগ আর মানবিকতার অনন্য উদাহরণ। ফারজানা ভাবি একজন আদর্শ স্ত্রীই নন, তিনিই এখন area's inspiration।
মানুষ বাঁচে মানুষের জন্য
এ ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও প্রশংসার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, রাজনীতি, মত-পথ, বিশ্বাস—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এ ঘটনাটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, এখনও ভালোবাসা ও মানবতা বেঁচে আছে।
আক্রান্ত কুদ্দুস বিশ্বাস নিজের প্রতিক্রিয়ায় শুধু একটিই কথা বলেছেন, আমি দ্বিতীয়বার জীবন পেয়েছি, আর সেই জীবনের নাম ফারজানা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাফল্যের পাশাপাশি এ ঘটনা হয়ে থাকবে আত্মত্যাগ, ভালোবাসা আর পারিবারিক বন্ধনের এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। ফারজানার সাহসিকতা কেবল একজন স্বামীকে ফিরিয়ে আনেনি, ফিরিয়ে এনেছে মানুষের বিশ্বাস—ভালোবাসাই সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি।
এমন গল্পগুলোই প্রমাণ করে, রাজনীতির কূটকচাল নয়, মানুষের কাছে সত্যিকারের বড় খবর হলো ভালোবাসার জয়।
সবার দেশ/কেএম




























