সিইপিজেডে আগুনে ধসে পড়ল ভবনের ছাদ, নিয়ন্ত্রণে রোবট ও সেনাবাহিনী
চট্টগ্রামের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দাউদাউ করে জ্বলছে দুটি কারখানা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া আগুন রাত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ধসে পড়েছে ভবনের অষ্টম তলার ছাদ, আর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ঘটছে ভেতরে। আগুনের তীব্রতা এতটাই যে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ভবনের কাছেও যেতে পারছেন না।
দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। রাত ১০টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরাও যুক্ত হয়েছেন উদ্ধার অভিযানে। আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত সহায়তার জন্য ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আগুন নেভাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক রোবট ইউনিট। সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, রোবটটির সঙ্গে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। তিনি বলেন,
ভবনের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটায় আমাদের সদস্যরা সরাসরি ভেতরে যেতে পারছেন না, দূর থেকে রোবট দিয়ে পানি ছিটানো হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ইউনিটগুলো আগুন নেভাতে কাজ করছে। আগুন লাগা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত তোয়ালে ও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি তৈরি করত। দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আগুনের তাপে পাশের একটি তিনতলা ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাশের কয়েকটি কারখানার ভবন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ভবনে পানি ছিটিয়ে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান বলেন, আগুন লেগেছে ভবনের সপ্তম তলায়, যা গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করতেন, তবে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তদন্ত শুরু করা হবে। রাত গভীর হলেও আগুনের লেলিহান শিখা এখনো জ্বলছে সিইপিজেডের আকাশজুড়ে।
সবার দেশ/কেএম




























