চট্টগ্রাম ইপিজেডে আগুন: ভবনের দুই তলা পুড়ে ছাই
চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত অ্যাডামস ক্যাপ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। আটতলা এ পোশাক কারখানার অন্তত দুই তলা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আর আগুন এখন নিচের তলাগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে পুরো ভবন ও আশপাশের এলাকা, ফলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট এবং নৌবাহিনীর চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছে বিমানবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন,
ভবনের ছয়তলা ও সাততলা পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ভেতরে প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক ও দাহ্য উপকরণ মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তেই ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শ্রমিকদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা নাগাদ আগুনের তীব্রতা আরও বাড়ে, ফলে আগুন ভবনের অন্যান্য তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের ভেতরে থাকা দাহ্য রাসায়নিক ও কাঁচামালের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন <<>> চট্টগ্রাম ইপিজেডে ভয়াবহ আগান, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৭ ইউনিট
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিইপিজেড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে অসংখ্য স্বজন কারখানার সামনে ভিড় জমায়। আগুনের তীব্রতায় আশপাশের ভবনগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উৎসুক জনতাকে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সিইপিজেড চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল, যেখানে শতাধিক রফতানিমুখী কারখানা ও হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত। এ দুর্ঘটনা আবারও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সবার দেশ/কেএম




























