Sobar Desh | সবার দেশ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

পুড়ে ছাই টেক্সটাইল কারখানা

১৭ ঘণ্টা পর সিইপিজেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ধসে পড়েছে ভবন

১৭ ঘণ্টা পর সিইপিজেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ধসে পড়েছে ভবন
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৭ ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) একটি টেক্সটাইল কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের ২৬টি ইউনিটের রাতভর যৌথ প্রচেষ্টায় শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিভে যায়নি; ভবনের বিভিন্ন স্থানে এখনো ধোঁয়া ও ছিটেফোঁটা আগুন দেখা যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণে আসার পরও ১৭টি ইউনিট ভবনের ভেতরে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আগুনে আটতলা বিশিষ্ট ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ কারখানার ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। চিকিৎসা খাতের জন্য পোশাক ও সরঞ্জাম তৈরি করা এ কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত কারখানাটির অষ্টম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন সপ্তম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ২৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুনের ভয়াবহতা ও তীব্র উত্তাপে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সিইপিজেডে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর একটি টিম শুরুতেই ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নৌবাহিনীর পাঁচটি ইউনিট ও পরবর্তীতে বিমানবাহিনীর একটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেয়।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র উত্তাপে আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার পরিবেশ অসহনীয় হয়ে ওঠে। আশঙ্কা দেখা দেয় ভবন ধসে পড়ার, একপর্যায়ে অষ্টম তলার কিছু অংশ ধসে পড়ে। তবে আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।

অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা পুরো ভবন এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। রাতজুড়ে উদ্ধার ও নির্বাপণ অভিযান চলে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন ভবনের ভেতরে আগুনের অবশিষ্ট অংশ নেভানোর কাজ চলছে। আগুনের উৎস ও কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুন নেভানোর কাজ শেষ হলে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হবে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ