কুয়াকাটায় চাঁদা দাবির অভিযোগ
দোকানে হামলা-ভাঙচুর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য গ্রেফতার
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ‘তানিসা আচার ঘর’-এর মালিক মনিরুল হাওলাদার মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি কুয়াকাটার হুইসেন পাড়া এলাকার মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, অভিযুক্তরা কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
মনিরুল হাওলাদারের অভিযোগ, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে তার দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এ সময় দোকানের কর্মচারী হাসানকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মাকসুদ আকন দোকানের ভেতরে ঢুকে গালাগাল করেন এবং ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্য মো. মাকসুদ আকনকে গ্রেফতার করে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। গ্রেফতার হওয়ায় তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্তের চাচাতো ভাই মামুন আকন ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দোকানের জমি নিয়ে তার ভাই মাকসুদের সঙ্গে বিরোধ ছিলো। বিভিন্ন জায়গা থেকে কিস্তিতে টাকা এনে জমির চুক্তির জন্য বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন ধরে সে টাকা শোধ করছিলেন মাকসুদ। কিন্তু চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মালিকানা না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার দাবি, মাকসুদ চাঁদা দাবি করেননি, বরং দোকান ছাড়ার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, তাদের পরিবারে আগে কখনও কেউ থানায় যায়নি এবং তারা বিষয়টির আইনি সমাধান চান।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহব্বত খান জানান, প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, অভিযুক্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থক হলেও তাদের কোনও সাংগঠনিক পদ নেই। তিনি স্বীকার করেন, দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে কোনও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসায়ী মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























