ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে আঘাত হানবে না ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে আগে হামলা না হলে তাদের লক্ষ্য করে আর কোনও সামরিক আক্রমণ চালাবে না ইরান।
শুক্রবার ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এ নীতির অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সংঘটিত হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ইরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চায় না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণেই ইরানকে বাধ্য হয়ে কিছু হামলা চালাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করতে হচ্ছে বলে আমরা দুঃখিত। কিন্তু তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।
অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানের সরকারি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফের তথ্যমতে, এ অভিযানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং প্রায় ২৩০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
ইসরায়েলের দাবি, হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইমাম হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আইআরজিসি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।
ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এ সংঘাত কখন এবং কীভাবে শেষ হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল তেহরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ মেনে নেবেন। একই সময়ে ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্য সাময়িকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে সে সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























