হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা চরমে
ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানের ব্যঙ্গ—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির জবাবে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটি মজার সুরে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া পোস্টে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানায়, তারা ‘চাবি খুঁজে পাচ্ছে না’। একই ধরনের মন্তব্য করেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের মিশনও। তারা রসিকতার ছলে লিখেছে,
চাবিটি ফুলের টবের নিচে, তবে এটি শুধু বন্ধুদের জন্য।
এ বক্তব্যগুলোর মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেয়া কড়া হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করা হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।
তিনি আরও হুমকি দেন, প্রণালি বন্ধ থাকলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ইত্যাদিতে হামলা চালানো হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলার পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তারা আরও ‘ধ্বংসাত্মক’ পাল্টা জবাব দেবে। ইতোমধ্যে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার কথাও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে এ সংকট বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর।
সবার দেশ/কেএম




























