Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৮, ৫ এপ্রিল ২০২৬

৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ট্রাম্পকে ‘জাহান্নামের দরজা’ খুলে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ট্রাম্পকে ‘জাহান্নামের দরজা’ খুলে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান এ হুমকিকে ‘স্নায়বিক এবং ভারসাম্যহীন পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তাদের জন্য ‘জাহান্নামের দরজা’ খুলে দেয়া হবে।

শনিবার ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলীয়াবাদি এক বিবৃতিতে বলেন, ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ট্রাম্প এখন মরিয়া হয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি এটিকে ‘বোকামি’ বলেও উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া Truth Social-এ হুঁশিয়ারি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হলে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

এর জবাবে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ‘টার্গেট ব্যাংক’ প্রস্তুত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক অভিযানগুলো একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে এবং যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে আড়াল করতেই এমন হুমকি দেয়া হচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও তেহরান জানিয়েছে, মানবিক ও জরুরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল এখনও চালু রাখা হয়েছে।

এদিকে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর কাছে হামলার ঘটনায় সেখান থেকে ১৯৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, এ স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা কেবল ইরান নয়—বরং কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানে ৩৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে ১৯ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ইরান আরও দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ ও একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। নিখোঁজ এক মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে এখনো তৎপর রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। পাশাপাশি ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কাসেম সোলাইমানি-র পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আগামী ৬ এপ্রিল ট্রাম্পের দেয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার আভাস থাকলেও বাস্তবে দুই পক্ষই এখন সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষের প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট পুনর্বহাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম-ঢাকার নেতৃত্বে মোবারক-সবুজ
জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সাত জেলা প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ
জন্মশহরে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
বিএনপি জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে
স্থানীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট
বালু উত্তোলন ঘিরে সুনামগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
চীনে ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কলিনা
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত
নতুন করে কাউকে ‘শেখ হাসিনা’ হতে দেয়া হবে না: সারজিস
কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড, ইতিহাসে আর্জেন্টিনার দাপট