ইরানে অভিযানে অস্বীকৃতি মার্কিন বাহিনীর, ১২ শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে দেশটির ১২ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হলে একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা বাস্তবায়নে আপত্তি জানান। এর জেরে হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে বিরল ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যা বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে Joint Chiefs of Staff-এর চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে এত বড় পরিসরে একযোগে পদচ্যুতি নজিরবিহীন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে—সামরিক কর্মকর্তাদের এ অবস্থান কি একটি ‘অবৈধ নির্দেশ’ মানতে অস্বীকৃতি, নাকি এটি বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি সামরিক বাহিনীর অবাধ্যতার বহিঃপ্রকাশ। একপক্ষের মতে, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে এবং তা অমান্য করা কমান্ড কাঠামোর লঙ্ঘন।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, অভিজ্ঞ জেনারেলদের সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রয়োজনীয় ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
বর্তমানে Pentagon-এ চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। শীর্ষ পদগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কী পড়বে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এ দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: রোয়া নিউজ
সবার দেশ/কেএম




























