Sobar Desh | সবার দেশ ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৩৮, ১৫ জুলাই ২০২৫

‘তুমি কে আমি কে রাজাকার’ স্লোগানে ফের উত্তাল ঢাবি

‘তুমি কে আমি কে রাজাকার’ স্লোগানে ফের উত্তাল ঢাবি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফের মুখর হয়ে উঠেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সেই প্রতীকী স্লোগানে— ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’। সোমবার (১৪ জুলাই) রাতভর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এ স্লোগানে ফাটিয়ে তোলে পুরো ক্যাম্পাস।

দিনটির পেছনে রয়েছে এক বছরের পুরনো ক্ষোভ। ২০২৪ সালের এ দিনেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন— ‘যত রাজাকারের বাচ্চারা, নাতি-পুতিরা হলো মেধাবী’ এ বক্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তরুণ সমাজ।

সেদিন রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা হলে হলে জড়ো হয়ে রাজপথে নামে। শুরু হয় স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান— ‘কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’, ‘চাইতে এলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’। ঐ রাত থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নতুন ধারা তৈরি হয়, যা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের শুরুতে যে ইস্যু ছিলো চাকরিতে কোটা সংস্কার, তা একসময় রূপ নেয় মর্যাদার লড়াইয়ে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন— মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে রাজনীতিক স্বার্থে ছাত্রদের ওপর ‘রাজাকার’ তকমা বসিয়ে দেয়া কতটা ন্যায্য?

চলতি বছরের স্মারক হিসেবে সোমবার রাতে ফের রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। হল থেকে শুরু হয়ে মিছিল গিয়ে জমায়েত হয় টিএসসি চত্বরে। শিক্ষার্থীদের দাবি— সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই, চাকরির জন্য নয়, অপমানের জবাব দিতেই তারা পথে নেমেছেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষায়, দিনটি কেবল কোটা সংস্কারের স্মারক নয়, এটি একটি প্রতিরোধের প্রতীক। রাজনীতির অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে, তরুণদের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ের দিন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার এক মন্তব্যই কোটাবিরোধী আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আদালত কিংবা প্রশাসনিক আদেশে যে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছিলো, সে বক্তব্য নতুন করে আগুনে ঘি ঢালে। শুরু হয় ছাত্রলীগ বনাম কোটাবিরোধীদের সংঘাত, পাল্টাপাল্টি অবস্থান, আর ক্রমশ তীব্রতর হয় আন্দোলনের ঢেউ।

সরকার দমননীতিতে যায়, ছাত্ররাও গড়ে তোলে সংগঠিত প্রতিরোধ। আর সে আন্দোলনের স্মৃতি আজো তাড়িয়ে বেড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের।

১৪ জুলাই তাই আর শুধুই একটি দিন নয়— এটি প্রতিরোধের এক প্রতীক, তরুণদের মর্যাদা রক্ষার শপথের দিন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮