প্রশাসন ভবনে তালা
শাকসু নির্বাচন দাবিতে উত্তাল শাবিপ্রবি, অবরুদ্ধ উপাচার্য
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে উপাচার্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলছিলো। এ সময় উপাচার্য এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। বিক্ষোভকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘দালাল দালাল’ স্লোগান দেন।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা শাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নেই। এ কারণে ইতোমধ্যে আটজন শিক্ষক কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকলে কিছু শিক্ষার্থী তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের একটি দোকানে নিয়ে যান। পরে আন্দোলনরত কয়েকজন প্রার্থী ও শিক্ষার্থী প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় কিছু শিক্ষার্থী স্লোগান দেন। তিনি দোকানে কিছু কেনাকাটা করে বাসায় ফিরে যান। এ সময় দোকানের বাইরেও স্লোগান চলছিলো বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের কাছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কি না।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে শাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, শিক্ষকের সঙ্গে ঘটনাটি আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষোভের মুখে পড়লেও পরে আন্দোলনকারীরাই তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে পুনরায় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসন ভবনের তালা খুলে ভেতরে গিয়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। রাত আটটার দিকে বৈঠক শেষে তারা আবার তালা ঝুলিয়ে দেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপাচার্যসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন এবং বাইরে অবস্থান করছিলেন আন্দোলনকারীরা।
ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান জানান, চেম্বার আদালতের শুনানির সিদ্ধান্তের পর তারা পরবর্তী কর্মসূচি সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৮ বছর পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিলো। তবে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
সবার দেশ/কেএম




























