সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ
শাকসু নির্বাচন অবিলম্বে করার দাবিতে উত্তাল শাবিপ্রবি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন অবিলম্বে আয়োজনের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম নির্বাচনী দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে একের পর এক কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে প্রথমে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন বিক্ষুব্ধ প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন তারা।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা সময় শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকতে দেখা যায়। অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জগামী যানবাহন আটকে পড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ প্যানেলসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর যে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, তা আর কোনোভাবেই স্থগিত মেনে নেয়া হবে না।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়েই শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তারা।
আরও পড়ুন <<>> শাকসু নির্বাচন চার সপ্তাহ স্থগিত
এর আগে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে রোববার হাইকোর্টে রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ। ওই রিটের শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। আদালতের এ আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই ক্যাম্পাসে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে এমন উত্তেজনা ও আন্দোলনে শাবিপ্রবির সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
সবার দেশ/কেএম




























