দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষায় ফের অনিশ্চয়তা
শাকসু নির্বাচন চার সপ্তাহ স্থগিত
চার সপ্তাহের জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রচারণা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু ভোটের সব আয়োজন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যেই হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনার আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসম্মত নয়। অথচ আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা আইন ও বিদ্যমান নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিটের শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য রিটটি কার্যতালিকায় রাখেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছিলো। চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ শেষে নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই শিক্ষালয়।
সবার দেশ/কেএম




























