সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়
ছাত্রদল লেখাপড়া বাদ দিয়ে গ্রাফিতি মোছার কাজে লিপ্ত
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান চিত্র নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও গ্রাফিতি মুছে ফেলা কিংবা প্রতিপক্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরির মতো বিষয়গুলোকে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ছাত্রদল লেখাপড়া বাদ দিয়ে গ্রাফিতি মোছার কাজে লিপ্ত রয়েছে। ২৪ তাদের কাছে এত অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলো। আবার ‘গুপ্ত গুপ্ত’ বলে শিক্ষার পরিবেশ নস্ট করছে। এগুলো গায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার সামিল।
একই সঙ্গে কিছু আবাসিক হলে ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য সিট বরাদ্দ, গেস্ট রুমে নির্যাতনের অভিযোগ এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারের চিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সমালোচকরা আরও বলছেন, ছাত্ররাজনীতি ধীরে ধীরে মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে লেজুড়বৃত্তিক কার্যক্রম, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের সর্বোচ্চ ছাত্র সংসদ ডাকসুর কার্যকারিতার ওপরও।
শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত প্রকল্পে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দিকেও দৃষ্টি দিচ্ছেন কেউ কেউ। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায় তার নেতৃত্বে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সংস্কারের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।
তবে এসব মন্তব্য পুরোপুরি সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























