লালনকন্যা ফরিদা পারভীন আর নেই
‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’—এ গানের মতোই চিরদিনের জন্য অচেনা ভুবনে পাড়ি জমালেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। লালনগীতি ও আধ্যাত্মিক গানের অতুলনীয় পরিবেশনে যিনি হয়েছেন কোটি মানুষের হৃদয়ের শিল্পী, সে ফরিদা পারভীন চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এ খ্যাতিমান শিল্পী। খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী। তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ১৯৬৮ সালে তার সংগীতজীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে দেশাত্মবোধক গান দিয়ে পথচলা শুরু হলেও তিনি সর্বাধিক পরিচিতি পান ‘লালনকন্যা’ হিসেবে। তার কণ্ঠে ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘অচিন পাখি’, ‘তুমি জাননা হৃদয়ের কথা’সহ অসংখ্য লালনগীতি পেয়েছে নতুন প্রাণ।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৭৮ সালে পেয়েছিলেন একুশে পদক। জাপান সরকার তাকে সম্মানিত করেছিল কুফুওয়া এশিয়ান কালচারাল পদকে। শুধু নিজের গান গেয়ে থেমে থাকেননি তিনি; বরং পরবর্তী প্রজন্মের হাতে লালনের গান তুলে দিতে গড়ে তুলেছিলেন ‘অচিন পাখি স্কুল’। শিশুদের জন্য সেখানে আধ্যাত্মিক শক্তির বোধ ও লালনগীতি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভুবনে পথচলা শেষে চিরশান্তির ভুবনে চলে গেলেন ফরিদা পারভীন। কিন্তু তার কণ্ঠে বেঁচে থাকবে লালনের গান, বেঁচে থাকবে বাঙালির আত্মার সঙ্গে মিশে থাকা আধ্যাত্মিক সুর।
সবার দেশ/কেএম




























