উপনিবেশকালীন লুটের সম্পদ ফেরতের জোরালো দাবি
তাজমহলের হীরা ঘিরে বিতর্কে ব্রিটিশ অভিনেত্রী
বিনোদন দুনিয়ার ঝলমলে এক আয়োজন থেকেই এবার নতুন করে চাউর হয়েছে ইতিহাস, বিতর্ক আর ক্ষোভ। আসন্ন চলচ্চিত্র ‘উদারিং হাইটস’-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে চোখধাঁধানো সাজে হাজির হয়েছিলেন ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী মার্গট রবি। তবে তার গলার নেকলেসই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। কারণ, ওই নেকলেসের মূল আকর্ষণ ছিলো প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘তাজমহল’ হীরা।

এ অমূল্য রত্নটির ইতিহাস মোঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে হীরাটি ছিলো মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ও প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূর জাহানের মালিকানায়। হীরাটির গায়ে খোদাই করা ফার্সি লিপি আজও সে রাজকীয় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। অথচ এমন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হলিউড তারকার গলায় ঝুলতে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভারতীয় নেটিজেন ও ইতিহাস সচেতন মানুষেরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার তীর গিয়ে পড়েছে মূলত ফরাসি বিলাসবহুল জুয়েলারি হাউস কার্তিয়েরের দিকে। অভিযোগ উঠেছে, ঔপনিবেশিক শাসনামলে এ হীরাটি ভারত থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো। নূর জাহানের হাতবদল হয়ে একসময় এটি পৌঁছে যায় কিংবদন্তি ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের সংগ্রহে। ২০১১ সালে টেলরের মৃত্যুর পর নিলামে ওঠে ঐতিহাসিক এ রত্ন, সেখান থেকেই এটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের হাতে যায় বলে জানা যায়।

মার্গট রবির গলায় তাজমহলের হীরা শোভা পাওয়ার ঘটনায় কোহিনূরসহ ভারতের অন্যান্য লুট হওয়া ঐতিহাসিক সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই এটিকে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিচারিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে গত বছর মেট গালার ঘটনা নতুন করে সামনে টানা হচ্ছে। তখন ভারতীয় গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ পাতিয়ালার মহারাজার একটি ঐতিহাসিক নেকলেস পরতে চাইলেও কার্তিয়ের কর্তৃপক্ষ তা প্রদর্শনীতে থাকার অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করে। অথচ ২০২২ সালে একই সংগ্রহের গয়না ইউটিউবার এমা চেম্বারলেনকে পরতে দেয়া হয়েছিলো।

এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক রত্নগুলো নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বহুদিন ধরেই এমন দাবি জানানো হলেও পশ্চিমা বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর ভূমিকাকে অনেকেই ঐতিহ্যের অবমাননা বলেই দেখছেন।

তাজমহলের এ হীরা এখন আর কেবল একটি দামি গয়না নয়—দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠেছে হারানো ইতিহাস, লুট হওয়া গৌরব আর অসম্মানের প্রতীক।
সবার দেশ/কেএম




























