পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা তীব্র
হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২১ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ট্রাম্প বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালী উন্মুক্ত না করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক হামলা চালাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আঘাতের সূচনা করা হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে। তার এ বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোনো হামলা হলে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাত হানা হবে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে জানান, মার্কিন হামলা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হবে।
এর আগে ইরানের সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সতর্ক করেছিলেন, দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হানা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
পাল্টাপাল্টি এ হুমকির মধ্যেই ইসরায়েলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও ডিমোনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইসরায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও আক্রমণের আশঙ্কায় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু সামরিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে Persian Gulf অঞ্চলের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
এমন এক অনিশ্চিত বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্য এখন সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
সবার দেশ/কেএম




























