গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮২ ফিলিস্তিনি নিহত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবারের হামলায় গাজায় আরও ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে মধ্য গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭ জন, যাদের মধ্যে ২৩ জন দখলদার বাহিনীর হামলার শিকার হন ত্রাণ সংগ্রহের সময়। গাজা সিটিতে নিহত হয়েছেন আরও ২৩ জন এবং দক্ষিণ গাজায় ২২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন ত্রাণ আনতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
এদিকে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ‘কালো তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর সহিংসতার কারণে সংস্থাটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সিদ্ধান্ত জানায়।
জাতিসংঘের ‘সশস্ত্র সংঘাতে শিশু’ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী সবচেয়ে বেশি সহিংসতা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর বিশ্বজুড়ে ৪১,৩৭০টি সহিংসতার ঘটনা যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিশুদের হত্যা, শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ও ইসরায়েলে ২,৯৫৯ শিশুর বিরুদ্ধে ৮,৫৫৪টি গুরুতর সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে। এ পর্যন্ত গাজায় ১,২৫৯ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত ও ৯৪১ জন আহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বাস্তব মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে গাজায় আরও ৪,৪৭০ শিশু নিহত হওয়ার তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৯৭ জন ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে ৩,৬৮৮টি শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সবার দেশ/এফএস




























