Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৬, ৯ জুন ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০৮ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০৮ ফিলিস্তিনি নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের দিনও থামেনি গাজায় রক্তপাত। মুসলিমদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দিনেও একদিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখেনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বরং রোববার ছিলো চলমান গাজা যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ দিন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার (৮ জুন) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা বিমান হামলায় অন্তত ১০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯৩ জন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় শাসনকারী হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় যে যুদ্ধ শুরু হয়, তা এখনও থামার নাম নেই। ওইদিন হামাসের অতর্কিত আক্রমণে ১,২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। সে থেকে শুরু হওয়া আইডিএফের সামরিক অভিযান সময়ের সঙ্গে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।

যুদ্ধের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৮ মার্চ থেকে ফের আক্রমণ শুরু করে আইডিএফ।

রোববারের হামলায় নিহতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ। আহত প্রায় ৪০০ জনের চিকিৎসা চলছে বিভিন্ন হাসপাতালে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত গাজায় মোট ৫৪ হাজার ৮৮০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৭ জন। শুধু গত আড়াই মাসের দ্বিতীয় দফার অভিযানে প্রাণ গেছে ৪ হাজার ৬০৩ জনের, আহত হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার ৬৮৬ জন।

এদিকে, এখনও হামাসের হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। তাদের উদ্ধারে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনসহ আন্তর্জাতিক মহল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— ‘হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় দুই মাসের নতুন যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ইসরায়েল সম্মতি দিলেও হামাস এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। ফলে শিগগিরই যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ একটি গণহত্যার মামলাও চলছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত থাকলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে ঈদের দিনে যখন মুসলিম বিশ্ব আনন্দ-উৎসবে মেতে ছিলো, তখন গাজার মানুষ তাকিয়ে ছিলো ধ্বংসস্তূপ আর লাশের সারির দিকে। যুদ্ধ, রাজনীতি ও সামরিক আগ্রাসনের এ দীর্ঘ ছায়া থেকে মুক্তির জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগই এখন গাজার মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮