ইসরায়েলি হুমকি উপেক্ষা করেই গাজার পথে ফ্লোটিলা
গাজার দিকে ক্ষুধার্ত ও অবরুদ্ধ মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে এগোচ্ছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। তবে ইসরায়েলের সরাসরি হুমকি ও হামলার শঙ্কার মধ্যেই চলছে এ যাত্রা। বুধবার (১ অক্টোবর) ফ্লোটিলা গাজার উপকূল থেকে মাত্র ১২০ নটিক্যাল মাইল বা ২২২ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে এক কর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় এ তথ্য জানান।
ফ্লোটিলার যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের কর্মী, সাংবাদিক, শিল্পী, পরিবেশ আন্দোলনকারী ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪৯৭। বহরে যুক্ত আছেন সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ ও নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও।
প্রোগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের সহ-সমন্বয়ক ডেভিড অ্যাডলার এক চিঠিতে জানান,
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ ফ্লোটিলাকে ঘিরে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘হয়তো এটাই আমার শেষ চিঠি।
ফ্লোটিলার সদস্যরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি জাহাজগুলো রাতে বহরের চারপাশে চক্কর দেয়, হঠাৎ হেডলাইট বন্ধ করে ঘিরে ধরে। এতে ভয়ে রাতভর প্রায় কেউ ঘুমাতে পারেননি। অনেকের ক্যামেরা, লাইভস্ট্রিম ও যোগাযোগ ডিভাইস অচল হয়ে যায়।
ইতোমধ্যেই ইসরায়েল ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ফ্লোটিলা আটকাতে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, আশদোদ বন্দরে ৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর এলিট ইউনিট শায়েতেত–১৩ ফ্লোটিলা নিয়ন্ত্রণে নামবে। যাত্রীদের আটক করে কারাগারে পাঠানো হতে পারে, আর কিছু জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তুরস্কের নৌবাহিনীকে ফ্লোটিলার নিরাপত্তায় দেখা গেছে। তবে ইতালির নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছানোর পর বহর ছেড়ে যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল ফ্লোটিলার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফরাসি এমপি মাথিল্ডে প্যানোট, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এবং পোপ লিও চতুর্দশ সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তাদের ছয়জন নাগরিক ওই জাহাজে আছেন এবং সম্ভাব্য হামলার খবর তাদের চিন্তিত করছে।
গ্রেটা থানবার্গ বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এটা প্রচারণার কোনো কাজ নয়। কেউ প্রচারের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে না।
গত ৩১ আগস্ট স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ৪৪টি জাহাজের এ বহর এখন পর্যন্ত গাজায় পাঠানো সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক ত্রাণ মিশন। এর আগেও চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে গাজায় পৌঁছাতে চাইলেও ইসরায়েল জাহাজগুলো আটকায়।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























