Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫১, ৩ অক্টোবর ২০২৫

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণ

৪৭ দেশের ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবীকে আটক করলো ইসরায়েল

৪৭ দেশের ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবীকে আটক করলো ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জোরপূর্বক আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী—এমন অভিযোগ তুলেছে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ। 

আটক স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্বের ৪৭টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যও।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বিবৃতিতে ফ্লোটিলা জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী জলকামান ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছিটিয়ে একের পর এক জাহাজে হামলা চালায়। পরে স্বেচ্ছাসেবীদের জোর করে সামরিক জাহাজে তুলে অজ্ঞাত বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংগঠনটির দাবি, এ অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। ফ্লোটিলা আরও জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে, ফলে অধিকাংশ জাহাজ ও তাদের আরোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যে সব জাহাজ নিশ্চিতভাবে ইসরায়েলের হাতে আটক হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—ফ্রি উইলি (পোল্যান্ড), ক্যাপ্টেন নিকোস (পোল্যান্ড), ফ্লোরিডা (পোল্যান্ড), অল ইন (ফ্রান্স), কারমা, অক্সিগোনো (পোল্যান্ড), মোহাম্মদ ভাহর (নেদারল্যান্ডস), জেনো (স্পেন), সিউল (পোল্যান্ড), হিও (পোল্যান্ড), মর্গানা (ইতালি), ওটারিয়া (ইতালি), গ্র্যান্ডে ব্লু (পোল্যান্ড), দেইর ইয়াসিন (আলজেরিয়া), হুগা (পোল্যান্ড), অরোরা (ইতালি), ইউলার (স্পেন), স্পেকট্রে (স্পেন), আদারা (স্পেন), আলমা (যুক্তরাজ্য) ও সিরিয়াস (যুক্তরাজ্য)।

এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিয়ামিয়া, ভ্যাংলেইস, পাভলস, ওয়াহু, ইনানা, মারিয়া, আলাকাতালা, মেটেক, মাংগো, আদাজিও, আহেদ তামিমি, অস্ট্রাল, আমস্টারডাম, ওহওয়াইলা, সেলভাগিয়া, কাতালিনা, এসত্রেলা ও ফেয়ার লেডি। ফরাসি পতাকাবাহী মিকেনো জাহাজটি ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সেটির সঙ্গেও যোগাযোগ নেই। পোলিশ জাহাজ ম্যারিনেট এখনও স্টারলিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে, যেখানে ছয়জন স্বেচ্ছাসেবী অবস্থান করছেন।

ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে। তারা জানিয়েছে, আটক স্বেচ্ছাসেবীদের বিষয়ে খুব সীমিত তথ্য দেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিনা, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়।

ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ বিশ্বের সব দেশ, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এ ‘অপহরণ’ অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং আটক স্বেচ্ছাসেবীদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ইসরায়েলের দমননীতি কোনোভাবেই গাজার উদ্দেশ্যে মানবিক সহায়তা পাঠানোর লক্ষ্য থেকে তাদের বিরত করতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এর লক্ষ্য ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে সরাসরি সমুদ্রপথে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া। এবারের অভিযানে ৪৭টি দেশের অন্তত ৪০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছেন।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ