সাহিত্যে নোবেল পেলেন হাঙ্গেরির লাসলো ক্রাসনাহোরকাই
সাহিত্যে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার জিতেছেন হাঙ্গেরির খ্যাতিমান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক ভয়ের আবহে মানবতার অন্তর্গত সৌন্দর্য ও শিল্পের পুনরুজ্জীবনকে অসামান্য ভাষায় ফুটিয়ে তোলার জন্য তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করেছে দ্য সুইডিশ একাডেমি।
বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণার সময় একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্রাসনাহোরকাইয়ের সাম্প্রতিক জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’—জার্মান সমাজের এক অস্থির, বিভক্ত এবং ভীত সময়ের গভীর প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে একটি ছোট্ট শহরের সহিংসতা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও মানসিক বিপর্যয়ের গল্প, যেখানে ধ্বংসস্তূপের ভেতরও সৌন্দর্য আর সহমর্মিতার অসম্ভব সহাবস্থান খুঁজে পান লেখক।
১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জিউলায় জন্ম নেওয়া লাসলো ক্রাসনাহোরকাই পূর্ব ইউরোপীয় সাহিত্যের ‘ডার্ক ফিলোসফিক্যাল রিয়ালিজম’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচিত। তার লেখায় প্রলয়, মানব একাকিত্ব, রাজনীতির অনিশ্চয়তা ও নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্যেও শিল্পের টিকে থাকার এক গভীর বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়।
তার প্রথম উপন্যাস ‘স্যাটানট্যাঙ্গো’ প্রকাশের পর হাঙ্গেরির সাহিত্যাঙ্গনে সাড়া ফেলে। সেই গ্রামীণ বাস্তবতার গল্পে লেখক দরিদ্র, পরিত্যক্ত এক সম্প্রদায়ের জীবনের অন্ধকার বাস্তবতা তুলে ধরেছিলেন। পরে বিখ্যাত হাঙ্গেরিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা বেলা ট্যার এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে সাত ঘণ্টাব্যাপী সাদাকালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা ইউরোপীয় সিনেমায় এক কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ক্রাসনাহোরকাইয়ের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য মেলানকোলি অব রেজিস্ট্যান্স’, ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’, এবং ‘বারন ওয়েন্কহেইম’স হোমকামিং’—যা আধুনিক ইউরোপের বিশৃঙ্খল আত্মপরিচয়ের খোঁজে লেখা এক অনন্য ধারাবাহিক।
সাহিত্যের ভাষায় দার্শনিক ঘনত্ব, জটিল বাক্যগঠন এবং ধ্বংসের মাঝেও আশার স্থিতিশীল অনুসন্ধান—এ বৈশিষ্ট্যই তাকে সমকালীন ইউরোপীয় সাহিত্যে এক অনন্য কণ্ঠে পরিণত করেছে। এবারের নোবেল পুরস্কার সেই স্বতন্ত্র শিল্পভাষারই স্বীকৃতি।
সবার দেশ/এফও




























