Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০১, ১১ অক্টোবর ২০২৫

যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি ফিলিস্তিনে 

গাজা থেকেেইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু, ঘরে ফিরছে বাস্তুচ্যুতরা

গাজা থেকেেইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু, ঘরে ফিরছে বাস্তুচ্যুতরা
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ ১১ মাসের ভয়াবহ যুদ্ধের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে গাজার কিছু অংশ থেকে পিছু হটতে শুরু করেছে। ফলে অবরুদ্ধ গাজায় ফিরতে শুরু করেছে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি—যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলোতে দেখা যাচ্ছে স্বজনহারা, কিন্তু ঘরে ফেরার আকুলতায় ভরপুর মানুষের স্রোত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা সিটির দিকে ধুলোমাখা রাস্তায় বিশাল এক মানবধারা এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বহু মাস ধরে বাস্তুচ্যুত পরিবার, নারী ও শিশু।

গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ইসমাইল জায়দা বলেন, 

আল্লাহকে ধন্যবাদ, আমার বাড়ি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু চারপাশ ধ্বংস হয়ে গেছে—আমার প্রতিবেশীদের বাড়ি, স্কুল, মসজিদ, সব কিছুই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল সরকার হামাসের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন দেয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ স্থগিতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, বিনিময়ে ইসরায়েল ২৫০ জন দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে এবং যুদ্ধ চলাকালে আটক ১,৭০০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে।

একইসঙ্গে গাজায় পৌঁছাবে শত শত ট্রাক ভর্তি খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক সহায়তা। গাজার ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকা লাখো মানুষের জন্য এটি এখন সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে গাজার প্রধান শহরাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। তবে গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকা এখনও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছে তেলআবিব।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা এবং হামাসের হাতে থাকা অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করানো। এটা সহজে হলে ভালো, না হলে কঠিন উপায়েই অর্জন করা হবে।

এদিকে গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসে এবং কেন্দ্রে নুসিরাত শরণার্থী ক্যাম্পে ইসরায়েলি সেনাদের কিছু অংশ সীমান্তের দিকে সরে গেছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৪০ বছর বয়সী গাজাবাসী মাহদি সাকলা বলেন, 

যুদ্ধবিরতির খবর শুনেই আমরা গাজা সিটিতে ফেরার প্রস্তুতি নেই। যদিও আমাদের বাড়িঘর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবুও আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিরে যেতে পেরেই খুশি। দুই বছর ধরে আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছি।

হামাসের নির্বাসিত নেতা খলিল আল-হায়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তিনি যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা পেয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ যুদ্ধ ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতাকে গভীর করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে ইরান, ইয়েমেন ও লেবানন পর্যন্ত। মার্কিন প্রশাসনও নেতানিয়াহুর ওপর যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে।

এ যুদ্ধের ফলে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে—ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি তালিকা, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন, এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

তবে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ের পর এ যুদ্ধবিরতি গাজার মানুষের কাছে অন্তত একটুখানি আশার আলো—যুদ্ধ নয়, এখন তারা চায় কেবল বেঁচে থাকা ও ঘরে ফেরার অধিকার।

সূত্র: রয়টার্স

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন