খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা
পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ৭ পুলিশসহ নিহত ১২
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। পালটা অভিযানে একজন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ পাঁচ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে প্রদেশটির একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর জিও টিভির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল সন্ত্রাসী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা শুরু করে। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ গোলাগুলি চলে। দীর্ঘ বন্দুকযুদ্ধের পর নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুরো প্রাঙ্গণ ঘিরে অভিযান চালায়।
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) হাফিজ মুহাম্মদ আদনান জানান, ‘সন্ত্রাসীরা আকস্মিকভাবে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আক্রমণ চালায়। আমরা দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। সাহসিকতার সঙ্গে আমাদের বাহিনী প্রতিহত করেছে হামলাকারীদের এবং অবশেষে তাদের সবাইকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, রাতভর অভিযান শেষে ভোরের দিকে নিরাপত্তা বাহিনী প্রশিক্ষণ স্কুলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এ সময় এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়, যাতে অন্য কোনো সহযোগী পালিয়ে যেতে না পারে।
এ ঘটনায় জেলা সদর হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে আহত অন্তত ১৩ পুলিশ সদস্যকে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার সময় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য ও নবনিযুক্ত রিক্রুট। তাদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনসংযোগ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা। আমাদের সাহসী পুলিশ সদস্যরা দেশের নিরাপত্তার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি তাদের ঋণী থাকবে।
খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই তালেবান-সংযুক্ত গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার জন্য অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। গত কয়েক মাসে প্রদেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আফগান সীমান্তবর্তী এ এলাকাগুলোয় চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও নাজুক করে তুলছে।
সবার দেশ/কেএম




























