‘ভারতের মানচিত্রও মুছে যাবে’—পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের সামরিক কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্যের জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
শনিবার (৫ অক্টোবর) দেশটির সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্য শুধু শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে।
পাকিস্তানের শীর্ষ গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, আইএসপিআর সতর্ক করে বলেছে, ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি একেবারেই দায়িত্বহীন এবং উসকানিমূলক। এতে আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ বিবৃতিটি আসে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান অমর প্রীত সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। তিনি দাবি করেছিলেন, গত মে মাসের সংঘাতে ভারত পাকিস্তানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান—যার মধ্যে এফ–১৬ ও জেএফ–১৭ রয়েছে—ভূপাতিত করেছে। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ বক্তব্যকে ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আইএসপিআর বলেছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে, অথচ বাস্তবে তারাই দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরেও সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভারতের প্রকৃত চেহারা বুঝে গেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও সতর্ক করে জানায়, যদি ভারত পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেয়ার চিন্তা করে, তবে ভারতের মানচিত্রও টিকবে না। আইএসপিআর স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, নতুন কোনও যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তান এক বিন্দুও ছাড় দেবে না, আর এর পরিণতি হবে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। জবাবে পাকিস্তান চালায় ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’। যুদ্ধ দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
সবার দেশ/কেএম




























