ট্যাঙ্ক ধ্বংসসহ উত্তেজনা চরমে কুররাম সেক্টরে
পাক-আফগান ফের গোলাগুলি, লাশ ফেলে পালিয়েছে আফগান সেনারা
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত থেকে কুররাম সীমান্ত জেলায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থায়ী হয়। গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তের আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আফগান তালেবান এবং ফিতনা আল-খারিজ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিনা উসকানিতে পাকিস্তানের সীমান্ত পোস্টগুলোর ওপর ভারী অস্ত্রে হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করে, ফলে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা হামলায় আফগান তালেবানদের একাধিক পোস্ট ও ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে। সংঘর্ষের সময় তালেবান অবস্থান থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা যায়। পাকিস্তানি সেনাদের গোলাবর্ষণে একটি তালেবান ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেয়া হয়।
সামরিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় প্রস্তুত। কুররাম সেক্টরে সেনারা আফগান তালেবানদের আরও দুটি পোস্ট—এর মধ্যে একটি ট্যাঙ্ক মোতায়েনকৃত ঘাঁটি—ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর আফগান বাহিনী একাধিক মৃতদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের শামশাদ পোস্টে থাকা চারটি ট্যাঙ্ক অবস্থান ধ্বংস করে দেয়। ওই অভিযানে ফিতনা আল-খাওয়ারিজ নামের গোষ্ঠীর এক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার নিহত হয়।
এদিকে আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের নার্গসার পোস্টেও পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্তত চারটি ট্যাঙ্ক ও একাধিক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয়, এবং সেখানে অবস্থানরত তালেবান যোদ্ধাদের একটি অংশ নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। হামলার পর ওই পোস্ট এখন খালি পড়ে আছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে আফগানিস্তানের অন্তত চারটি পোস্ট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে অবস্থানরত আফগান সেনা ও টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
পাক সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জিও নিউজকে জানান,
আমাদের পাল্টা হামলার মুখে আফগান সেনারা টিকতে পারেনি। তারা পোস্ট ত্যাগ করে পালিয়ে গেছে। সীমান্তে পাকিস্তান এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবরও সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়, যখন আফগান সেনারা পাকিস্তানের সীমান্ত পোস্টে হামলা চালায়। পাকিস্তান তৎক্ষণাৎ পাল্টা জবাব দেয়। সে সংঘাতে ২০০-রও বেশি আফগান সেনা এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর)।
দুই দেশের মধ্যে এই নতুন সংঘাত সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুররাম সীমান্তে উত্তেজনা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে এটি সহজেই পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























